করোনার বিস্তার রোধে মানুষ পরামর্শ মানছে না কেন

মহামারী করোনা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিদিনই বিভিন্ন রকম দিক নির্দেশনা দিচ্ছে।পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের মধ্যে তা নামানোর বেশি প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

শরীরে করোনাভাইরাস রয়েছে কিন্তু বুঝতে পারার মতো উপসর্গ দেখা দেয়নি বলে বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশেই মানুষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পার্ক, সমুদ্র সৈকত বা বিভিন্ন পর্যটন স্পটে জড়ো হচ্ছেন।

তারা চুল কাটাতে, শেফ করতে বা চুলে রঙ করতে সেলুনে যাচ্ছেন, কেউ আবার বাড়িতে পার্টি দিচ্ছেন। তাদের কারণে একটি পুরো কমিউনিটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

এ নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে জোর প্রচার চালানো হলেও মানুষ খুব একটা কেয়ার করছে না।

এখনো সারা বিশ্বেই বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের আচরণ পরিবর্তন করতে অস্বীকার করছেন। এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে।

নাগরিকদের এমন বেপরোয়া আচরণের কারণে বার্লিন পুলিশ ৬৩টি বার ও ক্লাব বন্ধ করে দিয়েছে। নিউইয়র্কের মেয়র জিমে যাওয়া বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছেন। ভারত পুরো দেশ লকডাউন করেছে।

অবাধ তথ্যপ্রবাহের এ যুগেও কেন মানুষ করোনাভাইরাসের মতো মারাত্মক জীবাণু সম্পর্কে উদাসীন থাকছে। এমন জরুরি অবস্থাতেও মানুষ কেন নিয়ম মানতে নৈতিক বাধ্যবাধকতার ধার ধারছে না?

মানুষ নিয়ম না মানার কয়েকটি কারণ ব্যাখ্যা করেছেন অস্ট্রেলীয় মনোবিজ্ঞানী ও নৈতিক দার্শনিক পিটার সিঙ্গার।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির জীবনীতিবিদ্যা ও অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ মেলবোর্ন এর ব্যবহারিক নীতিবিদ্যার অধ্যাপক ও পিটার সিঙ্গার।

মানুষ নিয়ম না মানার কয়েকটি কারণ ব্যাখ্যা করেছেন তিনি।

প্রথম কারণ অজ্ঞতা-

যারা গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এই ভয়াবহ সঙ্কট নিয়ে উদ্বিগ্ন ও প্রতিনিয়ত এ সংক্রান্ত সংবাদ পড়ে, শুনে বা দেখে হালনাগাদ থাকছি তারা হয়তো ভুলে যাচ্ছি দেশের একটি বড় জনগোষ্ঠী এসবের ধারেকাছেও নেই।

তারা নিয়মিত এসব খবর দেখছেন না। অথবা তারা টিভি, রেডিও বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে অন্যকিছু দেখে সময় ব্যয় করছেন। তারাই মূলত জনস্বাস্থ্যের এই জরুরি অবস্থাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন না, বা কম গুরুত্ব দিচ্ছেন।

তারা অবলীলায় বাজারে, রেস্টুরেন্টে যাচ্ছেন। চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন। তারা এ মহামারীর ভয়ঙ্কর পরিণতি বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছেন।

দ্বিতীয় কারণ স্বার্থপরতা-

মামুলি কারণেও তারা বাইরে বের হচ্ছে কারণ প্রাপ্ত তথ্য উপাত্ত বলছে তাদের বয়সীদের মৃত্যুহার অত্যন্ত কম। এই তথ্যউপাত্তে বিশ্বাস করছে তারা। ফলে এদের কারণে অন্যরা ভয়ঙ্কর ঝুঁকিতে পড়ছে।

চীন ও ইতালি থেকে প্রাপ্ত প্রাথমিক উপাত্ত বলছে, গড়পড়তা তরুণরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলেও তেমন ঝুঁকিতে পড়ছে না।

সুতরাং বয়সের কারণে এ মহামারী থেকে বেঁচে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল এমন ভেবেই তরুণদের মধ্যে বেপরোয়াভাব দেখা যাচ্ছে। এটি নিখাত স্বার্থপরতা।

তৃতীয় কারণ মানুষের নৈতিক চরিত্র-

মানুষ সাধারণত চোখের সামনে ঘটে চলা ভোগান্তির জন্য ত্যাগ স্বীকার করে। কিন্তু সেটি যদি তাদের চোখের আড়ালে ঘটে বা সহজে দৃষ্টিগোচর না হয় তাহলে সেটি নিয়ে খুব একটা বিকার তাদের মধ্যে দেখা যায় না।

বারবার বলার পরও যারা ঘরে থাকতে রাজি হচ্ছেন না, তারা করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চাক্ষুস দেখছেন না। দূরত্বই তাদের এভাবে ‘বিবেকহীন নির্বিকার’ স্বার্থপর মানু

 

পরিশেষে উদাহরণ:

সম্প্রতি প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির এক দল শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে বিশাল পার্টি করেছে। তাদের তো শিক্ষাদীক্ষার অভাব নেই। আবার অনেক বয়স্ক লোকও বাইরে এমনভাবে ঘোরাফেরা করছেন যেন কিছুই হয়নি।

সুতরাং নিজের, সমাজের ও বিশ্ব মানবতার স্বার্থে এই মুহূর্তে সামাজিক নিরাপত্তা বজায় রাখাটা সবার জন্য জরুরি। এখানে সাধারণ প্রবৃত্তি বা স্বার্থপরতার পিছে দৌড়ালে অন্যদের তো বটেই নিজের অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

আরো দেখুন

Leave a Comment