করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু; জনমনে নানান প্রশ্ন

সারা দেশে করোনাভাইরাস উপসর্গ জ্বর, শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত অনেকের মৃত্যু হয়েছে। এদের কারো শরীরে করোনাভাইরাসের উপস্থিতি ছিল কিনা তা নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

তবে সতর্কাবস্থায় তাদের দাফন করা হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষার জন্য লাশ থেকে স্যাম্পল গ্রহণ করে আইইডিসিআর-এ পাঠানো হয়েছে বলে জানান স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে জানা যায়,

বরিশাল:

বরিশালে সাড়ে ৭ ঘণ্টার ব্যবধানে করোনা ইউনিটে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে, পটুয়াখালী শহরে সর্দি–কাশি ও শ্বাসকষ্টে ৬৫ বছরের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। ২৯ মার্চ বিকেলে তিনি মারা যান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

নওগাঁ:

করোনাভাইরাস সন্দেহে নওগাঁয় ঢাকা ফেরৎ যুবকের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু নওগাঁর রানীনগরে ঢাকা থেকে আসা এক যুবক জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন পরিবারের অভিযোগ করোনাভাইরাস সন্দেহে চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছেন তিনি।

২৯ মার্চ রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি রাতেই তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

এদিন সকালে প্রচন্ড জ্বর আর কাশি নিয়ে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা থেকে নওগায় আসেন এ সময় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে স্থানীয় ইউপি মেম্বার ও গ্রামের কিছু লোক তাকে গ্রামে প্রবেশ করতে দেয়নি।

পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসার জন্য তাকে আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয় সেখানেও চিকিৎসকরা তার চিকিৎসা না করে ফিরিয়ে দেন । এরপর আবার তাকে নিয়ে এসে ভিটি কমিউনিটি ক্লিনিকের বান্দা রাখা হয়। পরে রানীনগর উপজেলা কমপ্লেক্স এ পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে চিকিৎসকরা তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে পাঠান। অবশেষে তিন হাসপাতাল ঘুরে রামেকে গিয়ে মারা যান তিনি।

মানিকগঞ্জ:

মানিকগঞ্জে করোনাভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে সুচিত্রা সরকার (২৬) নামে এক গৃহবধূ মারা গেছেন। ২৯ মার্চ সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।

মুন্নু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, মৃত অবস্থায় গৃহবধূ সুচিত্রা সরকারকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তিনি সাতদিন ধরে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট এবং দুদিন ধরে পাতলা পায়খানায় আক্রান্ত ছিলেন। হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। ।

জানা যায়, সাতদিন আগে ওই গৃহবধূর শ্বশুর মারা যান। তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে অনেক লোক সমাগম হয়েছিল। সেখানে আসা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি আক্রান্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তাছাড়া ২৬ বছর বয়সী ওই নারীর ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগসহ অন্য কোনো রোগ ছিল না। হঠাৎ করে তার এই মৃত্যু সন্দেহজনক হওয়ায় বিষয়টি পুলিশ, সিভিল সার্জন এবং সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) জানানো হয়েছে।

বগুড়া:

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় করোনা ভাইরাস উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ পুলিশি পাহারায় সরকারি খাস জমিতে দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

২৮ মার্চ সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ময়দানহাটা ইউনিয়নের হোসেনপুর গ্রামের বড়পুকুরিয়া নামক স্থানে পীরের মাজারের পাশে সরকারি খাস জমিতে মরদেহ দাফন করা হয়।

এর আগে একইদিন সকালে শিবগঞ্জ উপজেলার মহব্বত নন্দীপুর গ্রামে স্ত্রীর কর্মস্থল এলাকায় ভাড়া বাসায় মারা যান ওই ব্যক্তি। করোনা উপসর্গ নিয়ে ঢাকা থেকে গত ২৪ মার্চ তিনি সেখানে আসেন।

করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার খবরে এলাকাজুড়ে করোনা আতংক ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় প্রশাসন সেখানকার ১৫টি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করে। এরপর নিশ্চিত হওয়ার জন্য মরদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে যায় স্বাস্থ্য বিভাগ।

লালমনিরহাট:

লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় ঢাকা ফেরত আজিজুল ইসলাম ওরফে মাস্টার (৪৫) নামে এক রিকশা চালক শ্বাসকষ্টে মারা গেছেন। এ ঘটনার পর করোনা আতঙ্কে বাড়ি ছেড়েছেন তার প্রতিবেশীরা। ২৮ মার্চ দুপুরে উপজেলা সদরের ভাদাই ইউনিয়নের হেলিপ্যাড এলাকায় নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান।

স্থানীয়রা জানায়, মাস্টার দীর্ঘদিন অ্যাজমা রোগে ভুগছিলেন। ঢাকায় রিকশা চালান তিনি গত ৭-৮ দিন আগে জ্বর, সর্দ্দি ও কাশি নিয়ে বাড়ি ফেরেন।

বাড়ি ফিরে জ্বর, সর্দ্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টের জন্য আদিতমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বর্হিবিভাগে চিকিৎসাপত্র গ্রহণ করেন। চিকিৎসকরা তাকে বাড়িতে অবস্থান করে সতর্কতার সঙ্গে চলতে পরামর্শ দেন। খবর পেয়ে থানা পুলিশও তাকে বাড়ির বাইরে না যেতে নিষেধ করেন।

মৃত্যুর খবরে করোনা সন্দেহে মুহুর্তে বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে যান প্রতিবেশীরা। তাদের ধারণা প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন দ্রুত ও সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে দাফনের নির্দেশ দেন।

ময়মনসিংহ:

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ২৮ মার্চ সকালে শ্বাসকষ্টে আবু সাঈদ (৬৩) নামে একজন মারা যান। মৃতের দাফন-কাফনেও তৈরি হয় জটিলতা। খবর পেয়ে ছুটে আসেন গৌরীপুর পৌরসভার প্রশাসন। পরে চিকিৎসার কাগজপত্র দেখে তার দাফনের ব্যবস্থা করা হয়

কুর্মিটোলা:

কুর্মিটোলা হাসপাতালে করোনা ইউনিটে এক রোগী মারা গেছেন। ২৮ মার্চ তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা বলছেন, তার করোনার মারাত্মক লক্ষণ ছিল। তবে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর) এখনও নিশ্চিত করতে পারেনি; ওই লোক করোনায় মারা গেছে কিনা

দিনাজপুর:

দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় করোনা ভাইরাস উপসর্গ নিয়ে ফরহাদ হোসেন অপি ওরফে তাহের উদ্দিন নামে ৪০ বছরের এক ব্যক্তি মারা গেছে। তিনি উপজেলার জজবানী ইউনিয়নের তফসি গ্রামের বাসিন্দা।

৩০ মার্চ সকাল ১১টায় দিনাজপুরের সিভিল সার্জন জানান, মৃত্যুর সময় তাহের উদ্দিনের সর্দি-জ্বর ও শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। পুরোপুরিভাবে নিশ্চিত না যে, তিনি করোনায় মারা গেছেন।

যশোর:

যশোর জেনারেল হাসপাতালে আইসোলেশনে ভর্তি কাকলি (১২) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সর্দি, জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও গলার বাথ্যার কারণে ৩০ মার্চ সকালে তার মৃত্যু হয়। সে যশোর সদর উপজেলার এনায়েতপুর গ্রামের কালাম হোসেনের মেয়ে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অতিরিক্ত জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও গলায় ব্যথা নিয়ে কাকলি ২৯ মার্চ বিকাল ৫টায় হাসপাতালে আসে। করোনা সন্দেহে তাকে আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।

চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলেও অতিরিক্ত জ্বর, সর্দি, কাশি ও গলায় ব্যথার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তবে সে করোনা সংক্রমিত ছিল না।

শেরপুর:

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার দক্ষিণ পলাশীকুড়া গ্রামে জ্বর ও শ্বাসকষ্টে তিন দিন ভোগার পর ২৯ মার্চ দিবাগত রাতে মারা গেছেন এক ব্যক্তি। তিনি করোনাভাইরাস আক্রান্ত সন্দেহে ওই বাড়িসহ আশেপাশের কয়েকটি বাড়ি ‘লকডাউন’ ঘোষণা করেছে প্রশাসন।

এছাড়া ওই ব্যক্তির করোনা পরীক্ষার জন্য আইইডিসিআরে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ৩০ মার্চ নমুনা সংগ্রহের পর ওই ব্যক্তির দাফন ও জানাজা হবে।

ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে গত তিন দিন আগে ওই ব্যক্তি জ্বর-শ্বাসকষ্ট নিয়ে নালিতাবাড়ীর গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। ভালুকায় তিনি নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন বলে জানা যায়।

কুষ্টিয়া:

কুষ্টিয়ায় ৩০ মার্চ সকালে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন জানান, ওই ব্যক্তি তিন দিন ধরে সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত ছিলেন। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি করানোভাইরাস আক্রান্ত হতে পারেন। এ জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) নিয়ম মেনে লাশ দাফন করা হবে।

অ্যাম্বুলেন্সে করেই রাজধানীতে ১৬ ঘণ্টা ঘুরলেন মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণের রোগী মো. আলমাছ উদ্দিন। কিন্তু ৫টি হাসপাতালের একটিতেও তার ঠাঁই হয়নি। অবশেষে চিকিৎসা ছাড়াই নিলেন চিরবিদায়।

২৮ মার্চ সকাল ৮টা থেকে বাবা আলমাছ উদ্দিনকে নিয়ে সন্তানেরা পাঁচটি হাসপাতালে ঘুরেছেন। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের চিকিৎসা ছাড়াই ২৯ মার্চ সকালে মারা যান তিনি।

আলমাছ উদ্দিনের মেয়ে বলেন, ২৮ মার্চ সকাল ৮টায় বাবাকে অ্যাম্বুলেন্সে তোলা হয় আমাদের বাসাবোর বাসা থেকে। অনেকগুলো হাসপাতাল ঘুরে রাত ১২টার দিকেনা বাবাকে বাঁচানো গেল না। আমার বাবা একরকম বিনা চিকিৎসায় মারা গেল। কী যে কষ্ট!’

মেয়ে জানালেন, বাবার পেটের পুরোনো রোগ ছিল। শুক্রবার ভীষণ ডায়রিয়া, সঙ্গে জ্বর। কিছুক্ষণ পর কথা জড়িয়ে যেতে থাকে তার।

যশোরে হোম কোয়ারেন্টাইন শেষে ১৬তম দিনে গোলাম মোস্তফা (৬০) নামে মালয়েশিয়া ফেরত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। ৩০ মার্চ সকালে নিজ বাড়িতে তিনি মারা যান। তিনি ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন।

এদিকে, উপজেলা প্রশাসন দাবি করেছে, মৃত গোলাম মোস্তফার করোনার কোনো লক্ষণ ছিল না। তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন।

বাঁকড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নেছার আলী জানান, গোলাম মোস্তফা মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোর ব্যবসা করতেন। এ জন্য তিনি প্রায় মালয়েশিয়াতে আসা যাওয়া করতেন। সবশেষ তিনি গত ১৪ মার্চ মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফিরে আসেন।

এরপর থেকে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন। ২৯ মার্চ হোম কোয়ারেন্টাইন শেষে ৩০ মার্চ সকালে ১৬তম দিনে তিনি বাঁকড়া বাজারের বাসা থেকে তার গ্রামের বাড়ি উজ্জ্বলপুরে যান। সেখান থেকে ফিরে এসে নিজ বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং তিনি মারা যান।

বিষয়টি তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে জানানো হয়। পরীক্ষা করে তারা জানিয়েছেন, গোলাম মোস্তফা স্ট্রোক করে মারা গেছেন। অবশ্য এর আগেও তিনি দুইবার স্ট্রোকজনিত কারণে অসুস্থ হয়েছিলেন।

মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে:

করোনার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। তারা কী আসলে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে এ নিয়ে নানান প্রশ্ন দেখা যাচ্ছে জনমনে। করোনার লক্ষণ, যেমন জ্বর, সর্দি ও কাশি নিয়ে মারা যাচ্ছে অথচ করোনা বলা হচ্ছে না।

তারা কি অপারক:

তাহলে এরা কিসে মারা যাচ্ছে। চিকিৎসকরা কেন এই মৃত্যুগুলোকে শনাক্ত করতে পারছেন না। তারা কি এতো অপারক যে সাধারন সর্দি ও কাশি শনাক্ত করতে পারছেন না। করোনার চাইতে বেশি লোক মারা গেল এর লক্ষণ নিয়ে তাহলে এটা ষ্পষ্ট করা উচিৎ এরা কিভাবে মারা যাচ্ছে।

আরো দেখুন

Leave a Comment