করোনাযুদ্ধে বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ নেতা নিউজিল্যান্ডের জ্যাসিন্ডা অ্যার্ডেন

করোনাযুদ্ধে বিশ্ব নেতৃত্বের আদর্শ নেতা নিউজিল্যান্ডের জ্যাসিন্ডা অ্যার্ডেন

প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাস বিশ্বনেতাদের যোগ্যতার পরীক্ষা নিচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানরা করোনার বিরুদ্ধে লড়তে একেক ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছেন।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মের্কেল বিজ্ঞানের ওপর আস্থা রেখেছেন। অন্যদিকে, বিজ্ঞানকে উড়িয়ে দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জায়ার বোলসোনারো।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলনে দোষারোপের নতুন নতুন পদ্ধতি খুঁজে নিচ্ছেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন না করলেও ১৩০ কোটি মানুষকে লকডাউন করে রেখেছেন।

জ্যাসিন্ডা কখনো ভুল তথ্য দেন না। কাউকে দোষারোপও করেন না। তিনি জনগণের পাশে থাকার চেষ্টা করেন। সবার প্রত্যাশা পূরণের জন্য তিনি নিরলসভাবে কাজ করার চেষ্টা করছেন।

পৃথিবীর সবচেয়ে উপযোগী নেতা:

‘পৃথিবীর সবচেয়ে উপযোগী নেতা’ হিসেবে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্ডা অ্যার্ডেনকে নিয়ে সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাগাজিন দ্য আটলান্টিক যেখানে পূর্বে উল্লেখিত নেতাদের বিষয়েও মন্তব্য।প্রকাশ করা হয়। জ্যেসিন্ডার দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বের ধরনের কারণেই তাকে অনন্য বলে আখ্যা দিয়েছে ম্যাগাজিনটি।

দ্য আটলান্টিক জানায়, করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে নিজের মতো করে নেতৃত্বের পথ তৈরি করেছেন নিউজিল্যান্ডের ৩৯ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্ডা অ্যার্ডেন।

করোনাভাইরাসকে হারানোর এই যুদ্ধে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্ডা অ্যার্ডেন। দক্ষ নেতৃত্বের মাধ্যমে তিনি জনগণের ওপর কোনোকিছু চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে তাদেরকে নিজেদের সুরক্ষার বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।

প্রশংসা করলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীও: 

নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্ডার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। জ্যাসিন্ডার বক্তব্য সহজ ও সুস্পষ্ট। আর এ জন্যই নিউজিল্যান্ডের সব শ্রেণির জনগণ প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা মেনে চলছেন।

কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই লকডাউন চলাকালীন মার্চের শেষ দিকে তিনি মেয়েকে ঘুম পাড়িয়ে বেশ কয়েকবার ফেসবুক লাইভে এসেছেন। তখন তাকে সাদামাটা ঘরোয়া একটি সোয়েটার গায়ে জড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

ফেসবুক লাইভে জনগণের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন তিনি। লকডাউনের জন্য জনগণের অসুবিধা হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেন। জনগণকে বোঝান যে, করোনাযুদ্ধ জয় করতে হলে সবাইকে একসঙ্গে লড়তে হবে।

থাকতে হবে বাবলের মধ্যে :

লকডাউনের গাইডলাইন তিনি খুব সহজ ভাষায় মানুষকে বুঝিয়েছেন। বলেছেন, ‘নিজেকে একটি বাবলের মধ্যে রাখুন। পরিবারের সদস্য, অফিস সহকর্মী কিংবা যাদের ছাড়া আপনার চলবেই না তাদেরকে সেই বাবলের ভেতরে রেখে অন্য সব মানুষ থেকে দূরে থাকুন।

এমন আচরণ করুন যেন আপনি ইতোমধ্যেই কোভিড-১৯’এ আক্রান্ত। তাই হাতেগোনা মানুষ ছাড়া বাবলের বাইরের কারো সঙ্গে মিশবেন না। তাই প্রিয়জনদের সুরক্ষার জন্য ঘরে থাকুন।

নির্দেশ না চাপিয়ে বুঝিয়েছেন বাস্তবতা :

জনগণের ওপর নির্দেশনা চাপিয়ে না দিয়ে তিনি বাস্তবতা বুঝিয়েছেন। সংক্রমণের প্রাথমিক পর্যায়েই প্রায় ৫০ লাখ জনসংখ্যার এই দেশটিতে এক মাসের লকডাউন ঘোষণা করা হয়।

করোনাভাইরাস নির্মূল করার প্রাথমিক পর্যায়ে সীমান্তে কঠোর ব্যবস্থাপনা, বিদেশফেরতদের বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টিনে রাখা, ঝুঁকিতে থাকা সব মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসাদের শনাক্ত করা— এসব ব্যবস্থার কারণেই নিউজিল্যান্ডে করোনা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।

এছাড়াও করোনাভাইরাস নির্মূল করা ও অনেক মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পরিকল্পনার সুফল পাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের মানুষ। ভাইরাসের সংক্রমণ কমানো নয়, প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডার লক্ষ্য শূন্যে নিয়ে আসা। করোনাভাইরাসকে পুরোপুরি নির্মূল করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *