করোনাভাইরাস নিয়ে চীন-আমেরিকা-বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যত ভুল

World Covid-19 Status

শুরু থেকেই করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের জন্য একে অপরকে দুষছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। করোনা মহামারি মোকাবিলায় হিমশিম খেলেও দোষারোপ চলছে।

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকে এ পর্যন্ত চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে হংকং ভিত্তিক গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

 

চীনের ভুল:

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্তের খবর প্রকাশ করে চীন। হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহানে ২৭ জন নিউমোনিয়ার রোগীর খবর পাওয়া যায়।

চীনের ভুলচীন তথ্য গোপন করে বলে অভিযোগ উঠে। প্রথমে তারা এটাকে নিউমোনিয়া বলে এবং তা মানুষ থেকে মানুষে ছড়ায় না বললেও অনেক পরে এসে ২০ জানুয়ারি স্বীকার করে যে মানুষে মানুষে ভাইরাসটি ছড়াচ্ছে।

 

আমেরিকার ভুল:

ডব্লিউএইচওর পরামর্শ সত্ত্বেও ৩১ জানুয়ারি মার্কিন নাগরিকদের চীন ভ্রমণে যেতে নিষেধ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের এমন সিদ্ধান্তে ভালোর চেয়ে ক্ষতি হয় বেশি। কারণ এর ফলে তথ্য বিনিময় ও চিকিৎসা সামগ্রীর সরবরাহ বিঘ্নিতসহ, অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এছাড়া চীনের প্রতি পক্ষপাতিত্বের কারণ দেখিয়ে গত ১৪ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থায় (ডব্লিউএইচও) অনুদান বন্ধের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ডব্লিউএইচও এর সবচেয়ে বড় একক তহবিলদাতা যুক্তরাষ্ট্র। গত বছর ৪০ কোটি ডলার দিয়েছে দেশটি, যা সংস্থাটির মোট বাজেটের প্রায় ১৫ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আচমকা তহবিল বন্ধ করে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্ত। মহামারি চলাকালে আন্তর্জাতিক এ সংস্থায় তহবিল বন্ধ করা বৈশ্বিক মহামারিকে আরো হুমকিতে ফেলা দেওয়ার শামিল।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভুল:

 

চীনের উহানে করোনাভাইরাস ধরা পরার পর তা সাথে সাথে প্রকাশ না করে প্রায় এক সপ্তাহ পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা করোনার প্রাদুর্ভাব নিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে।

জানুয়ারির শুরু থেকে আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলেও ১৪ জানুয়ারি   মহামারি নিয়ন্ত্রণে মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে প্রযুক্তি ব্যবহার করার কথা জানায় ডব্লিউএইচও।

সংশিষ্টরা বলছেন, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত মানুষ থেকে মানুষে সংক্রমণ হচ্ছে না এমন ঘোষণার কারণে বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে এটি ছিল ডব্লিউএইচওর সবচেয়ে বড় ভুল। সেটি বিপজ্জনক একটি সিদ্ধান্ত ছিল।

জানুয়ারির শেষদিকে করোনার সংক্রমণ সম্পর্কে জানতে চীনে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর কথা জানালেও প্রায় তিন সপ্তাহ পর চীন ও ডাব্লিউএইচওর একটি দল যৌথ মিশন শুরু করে।

এরও কিছুদিন পর উহানের পরিস্থিতি পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণ করে তারা। যা ডাব্লিউএইচওর ভুল সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

 

বিশেষজ্ঞদের অভিমত:

বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের এই পরস্পর ‘দোষারোপের রাজনীতি’ মূলত তাদের মধ্যকার তীব্র প্রতিদ্বন্দিতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন থেকে জন্ম নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত ১৪ এপ্রিল ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র মার্গারেট হ্যারিস মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে ডব্লিউএইচওর হলগুলোতে বিপদের ঘণ্টা বাজতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ দিকে মোড় নিচ্ছে।’

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টের অর্থায়ন বন্ধের যে সিদ্ধান্তে নিয়েছেন এখন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অর্থায়ন কমানোর সঠিক সময় নয়। মহামারির মধ্যে এমন সিদ্ধান্ত ভয়াবহ পরিস্থিতিতে মোড় নিতে পারে।

ট্রাম্পের সমালোচকেরা বলছেন, সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাকে দোষারোপ করে বলির পাঁঠা বানাচ্ছেন। অন্যকে দোষ দিয়ে নিজে দায়মুক্ত হতে চাইছেন।

 

 

 

আরো দেখুন

Leave a Comment