শ্বাসযন্ত্র ছাড়াও একাধিক অঙ্গ অকেজো করে দেয় করোনাভাইরাস: গবেষণা

শ্বাসযন্ত্র ছাড়াও একাধিক অঙ্গ অকেজো করে দেয় করোনাভাইরাস: গবেষণা

প্রতিনিয়তই চরিত্র বদলানোর কারণে করোনাভাইরাস এর ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে পারছেন না গবেষকরা। নতুন গবেষণায় ওঠে এসেছে করোনার নতুন ভয়ঙ্কর তথ্য।

দ্য ল্যানসেট এর প্রতিবেদন:

করোনাভাইরাস শুধু শ্বাসযন্ত্র বা ফুসফুসেই নয়, এটি মানবদেহের পুরো রক্ত সংবহন তন্ত্রে আক্রমণ করে, যার কারণে একাধিক অঙ্গ অকার্যকর হয়ে পড়ে।

১৭ এপ্রিল-২০২০ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য সাময়িকী ‘দ্য ল্যানসেট’এ প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ কথা জানিয়েছে হংকংভিত্তিক গণমাধ্যম সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

যা বলা হয়েছে গবেষণা প্রতিবেদনে: 

গবেষণা প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত তিন জন রোগীর ময়নাতদন্তে দেখা গেছে, তাদের পুরো রক্ত সংবহন তন্ত্র ‘ভাইরাসে পরিপূর্ণ’ ছিল ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শরীরের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ তাদের কার্যকারিতা হারিয়ে ফেলেছিল।

করোনাভাইরাস
ফুসফুসেই নয়, ভাইরাসটি ধমনী, শিরা, উপশিরা সবখানেই আক্রমণ করে

গবেষণার নেতৃত্বে থাকা সুইজারল্যান্ডের জুরিখ ইউনিভার্সিটি হসপিটালের অধ্যাপক ফ্রাঙ্ক রুশিৎজকা বলেন, ’‘কেবল ফুসফুসেই নয়, ভাইরাসটি ধমনী, শিরা, উপশিরা সবখানেই আক্রমণ করে। অঙ্গহানি ঘটাতে সক্ষম।’’

নিউমোনিয়ার চেয়েও ভয়াবহ:

গবেষণায় দেখা গেছে যে, করোনার আক্রমণের ফলাফল নিউমোনিয়ার চেয়ে অনেক বেশি মারাত্মক ও ভয়াবহ। রক্ত সংবহন তন্ত্রের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র রক্তনালীর মধ্য দিয়ে রক্ত সঞ্চালন করে।

করোনাভাইরাস এন্ডোথেলিয়ামে (কোষের স্তর) প্রবেশ করে, যা রক্তনালীর প্রতিরক্ষা রেখা। এভাবেই এটি মানবদেহের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কমিয়ে দেয় ও মাইক্রোসার্কুলেশনে সমস্যার সৃষ্টি করে বলে জানায় গবেষকরা।

পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় রক্ত সঞ্চালন:

জুরিখ ইউনিভার্সিটি হসপিটালের হার্ট সেন্টার ও কার্ডিওলজি বিভাগ জানায়, ভাইরাসটি দেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে রক্ত সরবরাহ কমিয়ে দিতে থাকে ও এক পর্যায়ে রক্ত সঞ্চালন পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়।

করোনাভাইরাস
সুইজারল্যান্ডের জুরিখ ইউনিভার্সিটি হসপিটাল

সহজ শিকার ধূমপায়ীরা: 

করোনা আক্রান্ত রোগীদের হৃদপিণ্ড, যকৃত ও অন্ত্রসহ প্রায় সব অঙ্গেই সমস্যা দেখা দেয়। যারা ধূমপায়ী ও যাদের এন্ডোথেলিয়াল ফাংশনের পূর্ব দুর্বলতা রয়েছে অথবা রক্তনালী অপুষ্ট, তারা করোনাভাইরাসের কাছে সবচেয়ে সহজ শিকার বলে জানায় গবেষকরা।

এ ছাড়াও, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা ও কার্ডিওভাসকুলার রোগে ভুগতে থাকা ব্যক্তিরাও দুর্ভাগ্যক্রমে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছেন বলেও জানায় গবেষকরা।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *