কফি পানের উপকারিতা ও ঝুঁকি

Coffee and Cup

ক্লান্তিবোধ দূর করতে অথবা কর্মস্থলে বা বাসায় চোখ থেকে ঘুম তাড়াতে চা অথবা কফির জুড়ি মেলা ভার। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় কমপক্ষে চার থেকে পাঁচবার চা অথবা কফি পান করার অভ্যাস থাকে অনেকের।

অনেকে আবার সকালে ঘুম থেকে উঠেই বেড টি অথবা কফি দিয়ে দিনের যাত্রা শুরু করেন। শরীর ও মনকে চাঙা রাখতেই চা বা কফি পান করা হয়। যা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। অনেকটা বলা চলে নিয়মে পরিণত হয়ে গেছে।

এছাড়া আড্ডার সময়ও বন্ধু বান্ধবদের সাখে কফি খাওয়ার দৃশ্য দেখা যায় অহরহ। মানুষের মন ও মেজাজ বদলে চাবা কফির গুরুত্ব রয়েছে তার অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

গোটা বিশ্বে অত্যধিক জনপ্রিয় পানীয়ের মধ্যে ‘কফি’ অবস্থান করছে সবার শীর্ষে। ‘কফি বীজ’ পুড়িয়ে গুঁড়ো মিশিয়ে কফি তৈরি করা হয়। এই বীজ কফি চেরি নামের ফল থেকে পাওয়া যায়। সবুজ কফি বিশ্বব্যপি সবচেয়ে বেশি বিকিনিকির কৃষিপণ্যের মধ্যে একটি।

কফিতে ক্যাফেইন নামের এক ধরনের উত্তেজক পদার্থ থাকে। ৮ আউন্স কফিতে প্রায় ১৩৫ মিলিগ্রাম ক্যাফেইন রয়েচছে। ক্যাফেইনের কারণেই কফি মানবদেহে উত্তেজক প্রভাব ও উদ্দীপক হিসেবে যোগান দেয়। কফি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিক্রিত পণ্য।

উপকারিতা :

সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা যায়, লিভারের স্বাস্থ্য উন্নত করাসহ ক্যান্সার প্রতিরোধে দারুণভাবে কাজ করে কফি। মানসিকভাবে সতেজ রাখার অন্যতম উপাদান কফি। প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকায় দেহ মন চাঙা ভাব থাকে।

গবেষকরা বলছেন, প্রতিদিন তিন থেকে চার কাপ কফি খেলে শারীরিক সমস্যা যেমন- হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমমে আসবে, করোনারি অ্যাস্টিরির ঝুঁকি হ্রাস করে, ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি রোধ করে, লিভার সেরোসিসের ঝুঁকি হ্রাস করে, ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস করে, ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়, কফি পানে সর্বদা সতেজ অনুভূতি থাকে, কফি শরীরকে উদ্যমী ও উৎসাহী করে রাখে।

ঝুঁকি :

পদার্থবিদ নিউটনের সূত্রানুসারে প্রতিটি ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে সেই সূত্র কফি পানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। কফির যেমন ভালো দিক আছে তেমন আবার খারাপ দিকও রয়েছে। কফি পানের উপকারিতার পাশাপাশি এর কিছু ঝুঁকিও আছে।

খুব বেশি কফি পান ডেকে আনে বিপদ। আর অনেকে খালি পেটে কফি পান করেন তা দেহের জন্য মারাত্মক বিশেষ করে ব্ল্যাক কফি। ব্ল্যাক কফি মানব স্বাষ্খ্যের জন্য অনেক বিপর্যয় ডেকে আনে। যেমন- ক) খালিপেটে কফি খেলে বমি হতে পারে, কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, মাথাব্যাথা হয় কারো কারো, ঘুমের সমস্যা হয়, বেশি কফি খেলে গর্ভধারণের ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে, স্নায়বিকতা এবং উদ্বেগ বাড়ায় বেশি কফি পান, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা উচ্চ রক্ত চাপের আশঙ্কার হার বৃদ্ধি করে দেয়, হরমোন ক্ষরণে ব্যাঘাত তৈরি করে।

আরো দেখুন

Leave a Comment