এবার বিয়েও হবে অনলাইনে

বিয়ে

প্রযুক্তির উপর ভর করে এগিয়ে চলছে বিশ্ব। করোনা ভাইরাসের থাবায় থমকে যাচ্ছে সবকিছু। পর্যদস্তু গোটা বিশ্ব। তবে সময় এখন ভার্চুয়ালের হওয়ায় লকডাউনে থেকেও অনলাইনে সীমিত পরিসরে চলছে কার্যক্রম।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গোটা বিশ্বে চলছে লকডাউন। কোভিড-১৯ রোগের কারণে সব কিছুই এখন অনলাইনের উপর নির্ভরশীল। পড়াশোনা থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় সবই পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে।

স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, অফিসের কাজ ও বাজার সদাই সবই চলছে অনলাইনের উপর ভর করে। তবে থেমে গেছে বিয়ে, জন্মদিন ও বিয়ে বার্ষিকীর মতো বড় বড় সামাজিক আচার,অনুষ্ঠান ও রীতিগুলো।

সমাধান বের করেছে নিউ ইয়র্ক শহর কর্তৃপক্ষ: 

তাই অনেক প্রেমিক-প্রেমিকা জুটিসহ পারিবারিকভাবে পছন্দ করা বিয়ে আটকে গেছে। এই সমস্যার সমাধান নিউ ইয়র্ক শহর কর্তৃপক্ষ বের করেছে বলে ১৬ এপ্রিল-২০২০ নিউ ইয়র্ক পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সমস্যার সমাধান নিউ ইয়র্ক শহর কর্তৃপক্ষ বের করেছে

এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জনপ্রশাসন কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু কোমো বিয়ের সনদ অনলাইনে ইস্যু করাসহ বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা ভিডিও কনফারেন্সে পালন করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানায় নিউ ইয়র্ক পোস্ট।

এই প্রক্রিয়ায় বিয়ে করতে ম্যারেজ সার্টিফিকেটে সই করে অনলাইনেই আপলোড করতে হবে। আগামী ১৮ মে পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় বিয়ে করতে পারবেন নিউ ইয়র্কবাসীরা। লকডাউন রাড়তে পারে বলে আশঙ্কার জন্য সিটি কর্তৃপক্ষ অনলাইনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া:

বিবিসি জানায়, নিউইয়র্ক সিটির এই সিদ্ধান্তের পরে নেটিজেনদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে স্বাগতম জানিয়েছেন। নতুন কাপলদের বিয়ের সিদ্ধান্তের কারণে পরিবারের অন্য সদস্যরা ও বন্ধুরা বিয়ের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হবে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।

নিউ ইয়র্কে করনোভাইরাসের প্রকোপ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের চেয়ে অনেক বেশি। শুধু নিউইয়র্ক সিটিতেই আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার অনেক বেশি হচ্ছে। সেখানে বাংলাদেশিদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে দেখা যাচ্ছে।

ঘোষণা দিয়েছে আমিরাতও:

অনলাইনে বিয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসা নিউ ইয়র্কই প্রথম শহর নয়। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতও দেশটির নাগরিক ও অধিবাসীদের অনলাইনে বিয়ের অনুমোদের ঘোষণা দিয়েছে।

সংযুক্ত আরব আমিরাত

গত সপ্তায় দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় একটি ওয়েবসাইট চালু করেছে। যেখানে হবু স্বামী-স্ত্রীরা বিবাহের প্রয়োাজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে।

প্রস্তুত কলরাডো:

এছাড়াও আমেরিকার কলরাডো অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দাদেরও বিয়ের সনদের জন্য অনলাইনে বিয়ের আবেদন করার বিধান সম্প্রতি চালু করার ঘোষণা দিয়েছে।

আমেরিকার কলরাডো অঙ্গরাজ্য

পিছিয়ে থাকেনি ওহওি অঙ্গরাজ্যও:

আমেরিকার আরেক অঙ্গরাজ্যে ওহিওতেও অনলাইনে বিয়ের লাইসেন্সের জন্য আবেদন করার অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য প্রশাসন তবে এই জন্য শর্ত বেধে দিয়েছে তারা।

আমেরিকার ওহিও অঙ্গরাজ্য

কেবল বিশেষ অবস্থায় পরলেই বিয়ের সনদের জন্য অনলাইনে আমেদন করতে পারবেন। যেমন- কারো বাবা-মা যদি স্বাস্থ্য কর্মী হয়, অথবা কেই যদি মারাত্মক অসুস্থ হয় বা ইন্সরেন্স ইস্যু হয় সে ক্ষেত্রে বিয়ের সনদ পেতে হলে অনলাইনে আবেদন করতে হয়।

চীনে বিয়ের হিড়িক:

হংকংভিত্তিক গণমাধ্যম সাউথ চায়না মনিং পোস্ট জানায়, এপ্রিলের শুরু দিকে চীনে আটকে থাকা লাখো তরুণ-তরুণীর বিয়ের আয়োজন করেছে তাদের পরিবার। তারা করোনা ভাইরাসের কারণে বিয়ে করতে পারেনি।

লাখো তরুণ-তরুণীর বিয়ের আয়োজন করেছে তাদের পরিবার

উহানে ২৩ জানুয়ারি থেকে লকডাউন শুরু হয়ে চলে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। মোট ৭৬ দিন চলা লকডাউনে সব বিয়ের তারিখ বাতিল করে দেওয়া হয়। এবার লকডাউন উঠে যেতেই যুগলরা বিয়ের তারিখ পেতে যেন মরিয়া হয়ে উঠেছে।

 

আরো দেখুন

Leave a Comment