এবার গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

এবার গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

জাহিন জাহান: ২০২০ সালের আন্তর্জাতিক গান্ধী শান্তি পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ২২ মার্চ ২০২১ এ ঘোষণা দিয়েছে।

ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, এই পুরস্কারের জন্য এক কোটি টাকা, একটি পদক ও একটি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প দেওয়া হবে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত সভায় এই পুরস্কারের জুরি বোর্ড ‘সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ সালের জন্য সর্বসম্মতিক্রমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গান্ধী শান্তি পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

এতে আরও বলা হয়, ‘এবারের গান্ধী শান্তি পুরস্কারের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অনুপ্রেরণা, একটি জাতির স্থিতিশীলতা, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপন এবং শান্তির বানী প্রচারের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অপরিসীম ও অতুলনীয় অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’

‘বাংলাদেশ যখন মুজিববর্ষ উদযাপন করছে ভারত সরকার তখন তার অবদানের স্বীকৃতি দিতে পেরে বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের সঙ্গে সম্মানিত বোধ করছে,’ উল্লেখ করেছে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়।

মহাত্মা গান্ধীর ১২৫তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৯৫ সাল থেকে ভারত সরকার প্রতি বছর গান্ধী শান্তি পুরস্কার দিয়ে আসছে। গান্ধীর অহিংস নীতি পালন এবং সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনে অসামান্য অবদানের জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এই পুরষ্কার দেওয়া হয়।

গান্ধীর দেখানো অহিংস পদ্ধতিতে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তন সাধনের জন্য ২০১৯ সালে ওমানের প্রয়াত সুলতান কাবুস বিন সাঈদ আল সাঈদ এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন।

কুষ্ঠ রোগ নির্মূলে ভারত ও বিশ্বব্যাপী তার অবদানের জন্য ২০১৮ সালে জাপানের ইয়োহেই সাসাকাওয়া এ পুরষ্কারে ভূষিত হন।

এর আগের বছর ২০১৭ সালে ভারতের দুর্গম অঞ্চলে ও আদিবাসীদের শিক্ষা প্রদান করার জন্য ভারতেরই একক বিদ্যালয় এ পুরষ্কারে ভূষিত হয়।

এর আগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ১৯৭৩ সালের ২৩ মে বিশ্ব শান্তি পরিষদ কর্তৃক ‘জুলিও কুরি’শান্তি পদকে ভূষিত করা হয়।

বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি দম্পতি বিশ্ব শান্তির সংগ্রামে যে অবদান রেখেছেন, তা স্মরণীয় করে রাখতে বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৫০ সাল থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে, মানবতার কল্যাণে, শান্তির সপক্ষে বিশেষ অবদানের জন্য বরণীয় ব্যক্তি ও সংগঠনকে ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদকে ভূষিত করে আসছে।

নিপীড়িত, নিষ্পেষিত, শোষিত, বঞ্চিত বাংলার মানুষের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু ডাক দিয়েছেন স্বাধীনতা সংগ্রামের। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বাংলার মানুষ নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর জাতির স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ফ্যাসিবাদ ও সাম্রাজ্যবাদ পরিহার করে বন্ধুত্বের ভিত্তিতে দেশ পরিচালনা করে বিশ্বের সুনাম অর্জন করেন।

আর বিশ্ব মানবতায় অবদান রাখার কারণে বিশ্ব শান্তি পরিষদ বঙ্গবন্ধুকে ‘জুলিও কুরি’ পদকে ভূষিত করে। বিশ্বশান্তি পরিষদের এ পদক ছিল জাতির পিতার কর্মের স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশের জন্য প্রথম আন্তর্জাতিক সম্মান।

ম্যারি কুরি ও পিয়েরে কুরি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী। রেডিওলজির ওপর উইলিয়াম রঞ্জেনের আবিষ্কারের পথ ধরে কুরি দম্পতি তাদের গবেষণা চালিয়ে যান এবং পলোনিয়াম ও রেডিয়ামের মৌল উদ্ভাবন করেন। তাদের উদ্ভাবন পদার্থবিদ্যায় এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে।

বিশ্ব শান্তি পরিষদ শেখ মুজিবুর রহমানকে জুলিও ক্যুরি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে। ১৯৭৩ সালের ২৩ মে ঢাকায় অনুষ্ঠিত এশীয় শান্তি ও নিরাপত্তা সম্মেলনের দ্বিতীয় দিন বিশ্ব শান্তি পরিষদের তৎকালীন মহাসচিব রমেশ চন্দ্র তার হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। এটি বাংলাদেশের পক্ষে প্রথম আন্তর্জাতিক পদক।

২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা- ইউনেস্কো শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণকে বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পুরষ্কার চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর ইউনেস্কোর নির্বাহী পরিষদের ২১০তম অধিবেশনে শেখ মুজিবুর রহমানের নামে দ্বিবার্ষিক “ইউনেস্কো-বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ইন্টারন্যাশনাল প্রাইজ ইন দ্য ফিল্ড অব ক্রিয়েটিভ ইকোনমি” প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

ইউনেস্কোর বক্তব্য অনুসারে, এই আন্তর্জাতিক পুরষ্কার, সৃজনশীল উদ্যোক্তাদের বিকাশে সেরা অনুশীলন, গ্রহণ, উদযাপন এবং যোগাযোগের মাধ্যমে জ্ঞান ভাগ করে নেওয়ার একটি ব্যবস্থাপনা তৈরি করবে।

২০২১ সালের নভেম্বর থেকে যুবকদের আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক উদ্যোগের জন্য ৫০ হাজার ডলার মূল্যের এই পুরষ্কার দু বছরে একবার দেওয়া হবে।

ইউনেস্কো ২০২১ কে ‘স্থায়ী উন্নয়নের জন্য সৃজনশীল অর্থনীতির আন্তর্জাতিক বছর’ হিসাবে ঘোষণা করেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিখ্যাত ব্যক্তি এবং সংস্থার নামে ২৩ টি ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক পুরষ্কার রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *