এক দশকে জনপ্রিয়তায় শীর্ষে থাকা অ্যাপগুলো

প্রযুক্তির সুবাধে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ হয়ে যাচ্ছে। গত এক দশকে ডাউনলোডের ভিত্তিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাপ নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রযুক্তি সাইট গ্যাজেটস নাউ। নিচে দশকের সেরা কয়েকটি অ্যাপের বর্ণনা দেওয়া হলো-

ফেসবুক:

২০০৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা শুরু করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুক। কম সময়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে ফেসবুক। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হয় ফেসবুক। বিশ্বজুড়ে ফেসবুকের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৪৫ কোটি।

ফেসবুক মেসেঞ্জার:

ফেসবুকের জনপ্রিয়তম মেসেজিং অ্যাপ ফেসবুক মেসেঞ্জার, ২০১১ সালে অ্যাপটি বাজারে আসে। বিশ্বের ১১১ ভাষায় এ অ্যাপটি পাওয়া যাচ্ছে। অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, উইন্ডোজসহ সব ভার্সনে ব্যবহার করা যায় ফেসবুক মেসেঞ্জারটি। এক দশকের জনপ্রিয় অ্যাপের তালিকায় এটি দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। বিশ্বজুড়ে ২০০ কোটির বেশি মানুষ এর ব্যবহার করে উপকৃত হচ্ছেন।

ইনস্টাগ্রাম:

বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় ছবি ও ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ ইনস্টাগ্রাম। ফেসবুকের মালিকানাধীন এই অ্যাপটি ২০১০ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পদচলা শুর করে। অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস, উইন্ডোজ ভার্সনে ব্যবহার করা যায় এটি। বিশ্বের ৩২ ভাষায় পাওয়া যায় অ্যাপটি। এ পর্যন্ত ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ২৫০ কোটি। গত এক দশকে ডাউনলোডের ভিত্তিতে জনপ্রিয় অ্যাপগুলোর তালিকায় তিনে রয়েছে এটি।

স্ন্যাপ চ্যাট:

মাল্টিমিডিয়া মেসেজিং অ্যাপ স্ন্যাপচ্যাট ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়তা অজন করেছে। ২০১১ সালে এর যাত্রা শুরু হয়। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ভার্সনে ব্যবহার করা যায় অ্যাপটি। বিশ্বের ২২ ভাষায় পাওয়া যাচ্ছে চীনা এই অ্যাপটি। গোটা বিশ্বে স্ন্যাপ চ্যাটের ২১ কোটি সক্রিয় গ্রাহক রয়েছে। দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যাপের তালিকায় স্ন্যাপচ্যাট রয়েছে চতুর্থ স্থানে।

স্কাইপ:

স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, ব্যক্তিগত কম্পিউটার ব্যবহার করে গ্রাহকদের ভিডিও চ্যাট, ভিডিও কলের সুবিধা দিয়ে যাচ্ছে স্কাইপ। ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করে স্কাইপ। উইন্ডোজ, ম্যাকওএস, লিনাক্স, অ্যান্ড্রয়েড, আইওএস মাধ্যমে স্কাইপ ব্যবহার করা যায়। পৃথিবীর ১০৮ ভাষায় স্কাইপ ব্যবহার করা যায়। এর ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৪৩ কোটির বেশি।

হোয়াটসঅ্যাপ:

বর্তমান বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপের নাম হোয়াটসঅ্যাপ মেসেঞ্জার। ফেসবুকের মালিকানাধীন এই অ্যাপটি একই সাথে টেক্সট ও ভয়েস মেসেজ পাঠানোর কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়াও ভিডিও কল, ছবি ও ডকুমেন্ট শেয়ারসহ নানান ধরনের পরিসেবা দিতে সক্ষম অ্যাপটি। অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস মোবাইল বা উইন্ডোজ ডেস্কটপ অথবা ল্যাপটপে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করা যায়। ২০০৯ সালে আমেরিকায় যাত্রা শুরু করে হোয়াটসঅ্যাপ। ২০১৯ সালে প্রতিদিন ৫০ কোটির বেশি মানুষ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেছে বিশ্বব্যাপি।

টিকটক:

তরুণ প্রজন্মের এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে টিকপকের নাম জানে না। বাজারে তুলনামূলক নতুন সংযোজন টিকটক অ্যাপ। ২০১৬ সালে শুরু করে মাত্র ৩ বছরেই দশকের জনপ্রিয় অ্যাপের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে চীনা ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম টিকটক। আইওএস ও আন্ড্রয়েড ভার্সন রয়েছে টিকটকের। বিশ্বের ৪০টি ভাষায় এ অ্যাপ পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে টিকটকের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। চীন, আমেরিকা, ভারত, বাংলাদেশসহ পৃথিবীর অসংখ্য দেশে টিকটকের জনপ্রিয়তা শীর্ষ পর্যায়ে চলে যায়।

ইউসি ব্রাউজার:

ডাউনলোডের উপর ভিত্তি করে জনপ্রিয় অ্যাপের তালিকায় রয়েছে ইউসি ব্রাউজার। এটি গত এক দশকের মধ্যে সেরা অ্যাপ। উইন্ডোজ, অ্যান্ড্রয়েড, জাভা, আইওএস ভার্সনে ব্যবহার উপযোগী। ২০০৪ সালে ইউসি ব্রাউজার প্রথম বাজারে আসে। ভারত, ইন্দোনেশিয়াসহ এশিয়ার দ্রুতবর্ধনশীল প্রযুক্তি মার্কেটে গুগল ক্রোমের পর সবচেয়ে জনপ্রিয় ওয়েব ব্রাউজার ইউসি। বাংলা ভাষাসহ বিশ্বের ১৫ ভাষায় এটি ব্যবহার করা হচ্ছে। ২০১৯ সালে ব্রাউজারের বৈশ্বিক বাজার হিসেবের ৬. ৯ ভাগ ছিল ইউসি ব্রাউজারের দখলে।

ইউটিউব:

বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম ইউটিউব গত এক দশকের মধ্যে ডাউনলোড হওয়া অ্যাপের সেরা তালিকায় অবস্থান করছে। ২০০৫ সালে আমেরিকায় যাত্রা শুরু হওয়া কম সময়ের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বে জনপ্রিয়তা যায়। প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগলের মালিকানাধীন এ সেবা ভিডিও শেয়ারিংয়ের সীমানা ছাড়িয়ে ইউটিউব মিউজিক ও ইউটিউব টিভি দেখার সুবিধা এনে দিয়েছে ব্যবহারকারীদের জন্য। ২০১৯ সালে বিশ্বজুড়ে ইউটিউবের গ্রাহক সংখ্যা ১৯০ কোটি।

টুইটার:

মাইক্রো ব্লগিং ও সোস্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট টুইটার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ২০০৬ সালে টুইটারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। ব্যবহারকারীরা ২৮০ শব্দের মধ্যে যে কোনো বিষয়ে নিজেদের মনোভাব তুলে ধরে পোস্ট করা যায়। পোস্টে যুক্ত করা যায় ছবিও। বিশ্বজুড়ে টুইটারের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩৩ কোটির মতো। দিন দিন টুইটারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরো দেখুন

Leave a Comment