উগ্রবাদের ইচ্ছা সৃষ্টি হয় ভিডিও গেমসে: গবেষণা

দেশে ভিডিও গেম জনপ্রিয় হয় নব্বইয়ের দশকে। সে সময় বিভিন্ন স্থানে কয়েন নিয়ে ছেলেরা ভিড় করতো গেম খেলার জন্য। প্যাকম্যান, স্পেস ইনভেডার, স্ট্রিট ফাইটারের মতো গেমগুলো তখন জনপ্রিয় ছিল।

এখন দিন বদলেছে। শিশুরা এখন সহজেই পাবজি বা কল অফ ডিউটির মতো প্রতিহিংসামূলক গেমসে আসক্ত হচ্ছে। গবেষকরা বলছেন, এইসব গেমসে আসক্তির ফলে উগ্রবাদী মনোভাবের সৃষ্টি হচ্ছে।

আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন ২০১৫ সালে ভিডিও গেমস ও সন্ত্রাসবাদের মাঝে যোগসূত্র নির্ণয়ে একটি গবেষণা চালায়।

গবেষনায় দেখা গেছে, গত দুই দশকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে সন্ত্রাসী হামলা ঘটেছে সেগুলোর নেপথ্যে রয়েছে ভিডিও গেমসের প্রভাব।

২০১১ সালে আন্দ্রেস ব্রিভিক নামের এক ব্যক্তি নরওয়েতে একাই ৭৭ জন মানুষকে হত্যা করেন। এই ব্যক্তি নিজের প্রশিক্ষণের অংশ হিসেবে ‘কল অফ ডিউটি: মডার্ন ওয়ারফেয়ার ২’ নামক একটি গেমের কথা উল্লেখ করেছিলেন। এই গেমসে গেমারকে একটি গণহত্যায় অংশ নিতে হয়;

যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যের টেক্সাসে এক বন্দুকধারী একটি ওয়ালমার্ট স্টোরে ২২ জনকে হত্যা করে। তরুণ সেই বন্দুকধারী প্যাট্রিক উড এফবিআইকে দেওয়া জবানবন্দীতেও ‘কল অফ ডিউটি’ গেমটির কথা উল্লেখ করেন। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডকে মহিমান্বিত করে এমন ভিডিও গেমগুলোর যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে।

কল অফ ডিউটি মূলত একটি শুটিং গেম। সত্যিকার মিলিটারি প্রশিক্ষণ, যুদ্ধ কৌশল ইত্যাদি এই গেমে অনেক নিখুঁতভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। কোনো প্রকার মিলিটারি প্রশিক্ষণ ছাড়াই সব ধরণের অন্ত্র সম্পর্কে এখানে ভালো ধারণা পাওয়া যায়।

গবেষকরা বলছেন, এইসব গেমসের কারণে তরুণদের মধ্যে আক্রমণাত্মক আচরণ, সহানুভূতি ও সহনশীলতার অভাব পরিলক্ষিত হয়।

আমেরিকার ডার্থমুথ কলেজ প্রায় ১৭,০০০ কিশোরের ওপর একটি জরিপ করে জানিয়েছে, ভিডিও গেম কমবয়সী ছেলেদের মাঝে আক্রমণাত্মক আচরণের উদ্রেক করছে। বিশেষ করে জীবনযাপনের দিক থেকে তারা একটু অসামাজিক।

সম্প্রতি কিছু ব্যাটেল রয়াল গেম, যেমন- পাবজি, ফোর্টনাইট গেমগুলো নিষিদ্ধ করেছে বিভিন্ন দেশের সরকার।

প্যন ইউরোপিয়ান গেমিং ইনফরমেশন (PEGI) হলো ইউরোপের গেমসগুলোকে বয়স অনুযায়ী রেটিং করে থাকে। তাদের হিসেবে গ্র্যান্ড থেফট অটো ফাইভের রেটিং হলো ১৮+।

মানে এই গেমের বিষয়বস্তু ১৮ বছরের কম বয়সী গেমারদের জন্য উপযুক্ত নয়। কিন্তু আমাদের দেশে সকলেই এ গেমসটি অনায়াসে খেলতে পারে। যার নেতিবাক প্রভাব পড়তে পারে এই সমাজে।

আরো দেখুন

Leave a Comment