ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কর্মীদের কি খাওয়াত জানেন?

ইতিহাসে সবচেয়ে প্রভাবশালী বহুজাতিক কর্পোরেশন কোম্পানি হিসেবে বিবেচনা করা হয় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিকে। ১৬০০ সালের ৩১ জুলাই ব্রিটেনের রানি প্রথম এলিজাবেথ এটিকে রয়্যাল চার্টার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেন। এছাড়া ভারতের বর্তমান মুম্বাই, চেন্নাই ও কলকাতার উন্নয়নে এ কোম্পানির বড় ভূমিকা ছিল।

জানা যায়, তৎকালীন সময়ে কর্মী সংখ্যার দিক থেকে ব্রিটেনের ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ছিল সবার উপরে। দেশীয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর পাশাপাশি তারা হাজারো বিদেশি কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছিল।

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মক্ষেত্র

কর্মক্ষেত্র হিসেবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সুবিধা নিয়ে এ আয়োজন-

ঘুমানোর সুযোগ:

বর্তমানে বিশ্বের অনেক কোম্পানি কর্মীদের অফিসে ঘুমানোর সুযোগ দিচ্ছে। এই ‘অফার’ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি অনেক আগেই দিয়েছে।

খাবারের ব্যবস্থা:

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রধান কার্যালয়সহ অন্যান্য অফিস ও কারখানায় কর্মীদের খাবার অত্যন্ত যত্নসহকারে রান্না করা হতো। কর্মীদের নিজ দেশীয় খাবারের স্বাদ দিতে ইংরেজ, পর্তুগিজ ও ভারতীয় তিন রাঁধুনি রান্না করতেন। খাবার হিসেবে থাকতো পোলাও, পাখির মাংস, গরুর মাংসের রোস্ট। ছুটির দিনে থাকতো ময়ূরের মাংস, খরগোশের মাংস, হরিণের মাংস। যা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।

ওপেন বারের ব্যবস্থা:

কর্মীদের দুপুর ও রাতের খাবারে মদ পরিবেশন করতো। যারা ব্রিটেনের বাইরে কাজ করতেন, তারা প্রচুর পরিমাণ মদ সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারতেন। এছাড়া লন্ডনে অফিসের পাশাপাশি কর্মীদের জন্য বারের ব্যবস্থা ছিল।

কোম্পানি কর্তৃক কার্ডের ব্যবস্থা:

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রধান কার্যালয়

বর্তমানে অনেক কোম্পানি তাদের কর্মীদের কার্ড দিয়ে থাকে যা দিয়ে কর্মীরা ভালো রেস্তোরাঁয় ডিনার করার সুযোগসহ আরো বিভিন্ন সুবিধা পেয়ে থাকে৷ তবে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিতেও এই কার্ডের সুবিধা ছিল। দক্ষ ও অভিজ্ঞ কর্মীদের উপহারও দেওয়া হতো।

বেতন:

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অনেক কর্মকর্তার বেতন ছিল ব্রিটেনের সর্বোচ্চ বেতনভুক্তদের তালিকায়৷ কোম্পানিতে যে যত বছর চাকরি করতেন, সে অনুপাতে বেতন বাড়ানো হতো। ১০ বছরের বেশি সময় চাকরি করলে পেনশনের ব্যবস্থাও ছিল। ৪০ বছর চাকরি করলে চাকরি জীবনের বেতনের চারভাগের তিনভাগ পরিমাণ এককালীন অর্থ নিয়ে অবসরে যেতে পারতেন।

আরো দেখুন

Leave a Comment