ইমোশনাল মেল্টডাউন;  যে কষ্টগুলো কেবল নিজের

ইমোশনাল মেল্টডাউন; যে কষ্টগুলো কেবল নিজের

মানব জীবন সমস্যাকে উপেক্ষা করতে পারে না। যতদিন জীবন থাকবে ততদিন সমস্যাও থাকবে। মানসিক কষ্টগুলোই ব্যক্তির অনুভূতিকে নেতিবাচক দিকে মোড় নিতে সাহায্য করে।

এছাড়া এমন কিছু ট্রিগার পয়েন্ট রয়েছে যেগুলো মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে প্রভাব রাখে। যেমন, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ক্ষুধা, অতিরিক্ত কাজ, জীবনে কোনো পরিবর্তন, ভালোবাসার সম্পর্ক ইত্যাদি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কারও সঙ্গে মানসিকভাবে খুব কাছাকাছি আসলে তার দ্বারা মানসিকভাবে কষ্ট পাওয়ার সম্ভাবনাও বেশি থাকে। এক্ষেত্রে ভালোবাসার মানুষ থেকে কষ্ট পেলে মানুষ খুবই তাড়াতাড়ি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। এক্ষেত্রে তা অন্য কারো সাথে শেয়ার করেও কমানো যায় না।

অতিরিক্ত ক্লান্তি:

মানুষ যদি পরিমাণমতো না ঘুমায় এবং দিনের পর দিন কাজ করতে থাকে, তাহলে একটা সময় তার মস্তিষ্ক কোনো অনুভূতিকে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। এতে সে মানষিকভাবে ভেঙে পড়ে।

ক্ষুধা:

খাবার না খেলে মানুষের রক্তে সুগারের পরিমাণ কমে যায়। আর সেখান থেকেই চলে আসে মানসিক বিষাদ। যা থেকে নিজেকে কাটিয়ে উঠা কঠিন।

অতিরিক্ত কাজ:

কাজ করা খুব ভালো। তবে সেটা অতিরিক্ত হয়ে গেলে মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই, পরিমিত পরিমাণে কাজ করা দরকার। একবারে অনেকগুলো কাজ একসাথে নিজের হাতে নিয়ে নেওয়া কারো জন্যই ভালো নয়।

জীবনে কোনো পরিবর্তন:

প্রিয় কোনো মানুষকে হারানো, চাকরি ছেড়ে দেওয়া, বিয়ে করা, সন্তান জন্ম দেওয়া- এমন অনেক মোড়ই থাকতে পারে জীবনে। জীবনের এমনই কোনো ঘটনার ঠিক মাঝামাঝি থাকলে অবশ্যই নিজেকে সময় দিতে হবে এবং পরিবর্তনকে সহজভাবে মেনে নেওয়া শিখতে হবে। এতে মানসিকভাবে তুলনামূলকভাবে ভালো থাকা যাবে।

সেই মানুষগুলোকে ভালোবাসুন যারা আপনার সঙ্গে থাকে সবসময়। আর মানসিকভাবে ভেঙে পড়লেও সাহায্য চাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে করে আপনার ওপর অনেক চাপ আসবে না। আর মানসিকভাবেও আপনি ভালো থাকবেন।

ইমোশনাল মেল্টডাউন হতেই পারে। এই ব্যাপারটিকে যতটা লুকিয়ে রাখার চেষ্টা করবেন বা সমস্যাটি নিয়ে যত লজ্জা পাবেন এটি তত বেশি আপনাকে ঘিরে ধরবে। তাই, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বোধ করলে সেটি নিয়ে কথা বলুন। সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। এতে করে ধীরে ধীরে মানসিক এই যন্ত্রণা থেকে কিছুটা হলেও মুক্ত হতে পারবেন আপনি।

উপরের যে কোনো সসমস্যার সমাধান খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে করা যাবে নিজের মনের কথা শুনে সে অনুযায়ী মনকে সময় দিতে হবে। গবেষকরা বলছেন নিজের মনের কথা শুনলে ভেতরের অনেক যন্ত্রনা দূর হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *