আমেরিকায় স্বীকৃতি পেল বাংলা ভাষা 

আমেরিকায় স্বীকৃতি পেল বাংলা ভাষা 

মেহরিন নাজ: ২১ ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব পাস হয়। যেখানে বাঙালির ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস উঠে আসে।

সেখানে বলা হয়েছে, মায়ের ভাষা রক্ষায় ৫২’র ২১ ফেব্রুয়ারি প্রাণদান করেন বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা। শহীদ দিবস হিসেবে দিনটি পালন করে গোটা জাতি। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবেও এসেছে জাতিসংঘের স্বীকৃতি।

তার উপর বাংলাদেশ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সাথে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর উদযাপন করছে। যিনি ভাষা আন্দোলনের সময় একজন গুরুত্বপূর্ণ ছাত্রনেতা ছিলেন।

বিষয়টিকে বিবেচনায় নিয়ে জর্জিয়া সিনেটরা জয়জয়কার ধ্বনিতে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সাথে ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, জর্জিয়া স্টেট সিনেটের প্রথম বাংলাদেশি-আমেরিকান সেনেটর শেখ রহমান এই প্রস্তাব এনেছিলেন।

বাঙালি এ বংশোদ্ভূত বলেন, মায়ের ভাষা তথা নিজ দেশ, সংস্কৃতি, ইতিহাস-ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার অভিপ্রায়ে যারা অকৃপণভাবে রক্ত দিয়েছেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি সেই চেতনা প্রবাস প্রজন্মে জাগ্রত রাখার জন্যেই এই প্রস্তাব পাশ করা জরুরি ছিল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেটে শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দিয়ে একটি রেজ্যুলেশন গ্রহণ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়,বিশ্বের সব মানুষ ভাষাকে হৃদয়ে ধারণ করে থাকে। ভাষার প্রসার, সংরক্ষণ এবং বৈচিত্র অক্ষুন্ন রাখতে একটি শক্তিশালী উপায় হলো বহু ভাষার প্রচলন।

এতে ১৯৫২ সালে মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গকারী ভাষা শহীদদের অবদানের কথা তুলে ধরে এ দিনটিকে শহীদ দিবস হিসেবে পালনের কথা বলা হয়।

এর পাশাপাশি ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর ইউনেস্কো কর্তৃক ভাষা দিবসকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরা হয়।

আমেরিকার জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের সংসদে এ ধরনের রেজুলেশন প্রস্তাব পাশের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *