আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে খরচ হয় কত?

আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে খরচ হয় কত?

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে থাকে গোটা বিশ্ব মিডিয়া থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণ।

বিশ্বের ছড়ি ঘোরায় বলে এই দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের খুবই গুরুত্ব রয়েছে বিশ্ববাসীর কাছে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কেমন ব্যয় হয় এবং এই ব্যয় কিভাবে সংগ্রহ হয় এই নিয়ে রয়েছে মানুষের মনে বিশাল কৌতুহল।

আজকে আমরা আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের খরচ ও খরচ কিভাবে সংগ্রহ হয় এ বিষয়ে বিস্তারিত জানব।

২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনের প্রচারাভিযানে আনুমানিক খরচ হয়েছে সাড়ে ৬শ কোটি ডলার।

করোনার কারণে চলতি বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ভিন্ন রকম হলেও বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে।

গত পাঁচটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রত্যেক প্রার্থী গড়ে খরচ করেছেন ২০০ কোটি ডলারের বেশি।

এই অর্থের অর্ধেকেরও বেশি খরচ হয়েছে মিডিয়ার পেছনে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরচ হয় টিভি বিজ্ঞাপন তৈরিতে।

বর্তমানে ডিজিটাল বিজ্ঞাপন তৈরিতেও খরচ হচ্ছে অনেক। এর পরের অবস্থানে রয়েছে কর্মচারীদের বেতন।

২০১৬ সালে হিলারি ক্লিনটন কর্মচারীদের বেতন দিয়েছিলেন প্রায় সাড়ে ৮ কোটি ডলার।

আর এই নির্বাচনে ট্রাম্প ও হিলারি প্রত্যেকে সারা দেশে ঘুরে প্রচার চালানোর জন্য খরচ করেছেন সাড়ে চার কোটি ডলার।

সাম্প্রতিক কালের নির্বাচনগুলোতে প্রচারের জন্য গড়ে ৪০০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে।

মার্কিনিরা নির্বাচনে খরচের টাকা পান কোথায়?

মার্কিন নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট প্রার্থীদের ব্যয়ের বেশিরভাগ অর্থই আসে প্রচারের জন্য তোলা চাঁদা বা দান থেকে।

২০১৬ সালে এর এক-তৃতীয়াংশ এসেছিল ব্যক্তিগত চাঁদা থেকে।

যেখানে একজন আমেরিকান সর্বোচ্চ ২০০ ডলার দিয়েছিলেন।

খরচ চালাতে প্রার্থী ও দলগুলো তহবিল সংগ্রহের জন্য কমিটিও গঠন করে থাকে।

প্রচারের জন্য অর্থ সংগ্রহে বেশ কিছু নিয়ম কানুনও আছে।

যেমন, নির্বাচনের জন্য অর্থ দান করতে পারবেন শুধুই আমেরিকানরা।

এক ব্যক্তি একজন প্রার্থীকে ২৮’শ ডলারের বেশি দিতে পারবেন না।

তবে সংগ্রহীত অর্থ থেকে দলীয় তহবিলে বড় অংকের দান করা যায়।

তাছাড়া রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য ‘সুপার পিএসি’ নামে স্বাধীন কিছু গ্রুপ সীমাহীন পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করতে পারে।

তবে এসব গ্রুপ প্রার্থীর সাথে সরাসরি সমন্বয় করে কাজ করতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক প্রচারের জন্য কত টাকা খরচ করা যাবে তার কোনো সর্বোচ্চ সীমা বাধা নেই।

যে কারণে মার্কিন নির্বাচনগুলো ক্রমশই আরো বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।

আমেরিকা যেহেতু মোড়ল দেশ তাই এ দেশটির প্রেসিডেন্ট কে হবে তারপরেই নির্ধারিত হবে ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, বাণিজ্যিক অর্থনৈতিকসহ নানান বিষয়।

লেখক: ইসরাত জাহান পুষ্পিতা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *