আভিজাত্যের প্রতীক অটোমেটিক ডোর

আভিজাত্যের প্রতীক অটোমেটিক ডোর

মোহাম্মদ রবিউল্লাহ: লাক্সারি শপিংমল, অফিস, হোটেল ও যেকোনো ডেকোরেটিভ প্রতিষ্ঠানের আভিজাত্যের প্রতীক অটোমেটিক সেন্সর ডোর। বিশেষ ধরনের এ দরজার মধ্য দিয়ে চলাচল করা যায় সাধারণ দরজার মতোই।

সেন্সর ডোরে থাকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও মডেলের বিভিন্ন সেফটি সিস্টেম। অটোমেটিক সিস্টেমের এ ডোরের জন্যই যে কোনো প্রতিষ্ঠান ভিন্ন মাত্রা ও ভিন্ন পরিচিতি পেতে পারে।

এতে রয়েছে উচ্চ ক্ষমতা সম্পূর্ণ মোশন সেন্সর, যার ফলে আপনি দরজার কাছাকাছি আসা মাত্র, কাঁচের দরজা অটোমেটিক খুলবে এবং চলে যাওয়া মাত্র অটোমেটিক বন্ধ হয়ে যাবে।

অটোমেটিক গ্লাস ডোরের সাথে ফিঙ্গার প্রিন্ট সিস্টেম, ইলেকট্রিক ম্যাগনেটিক লক সিস্টেমও থাকে। অটোমেশন সিস্টেমের এই দরজা বা গেটগুলো ম্যানুয়াল সুইচ এবং রিমোটের সাহায্যে ৫০ ফুট দূর থেকেও অপারেট করা যায় ।

গেটগুলো যেকোনো সাইজের হতে পারে। গ্লাস ডোর সিষ্টেমের সাথে এক্সটা ইউপিএস সেট করা থাকে যাতে বিদ্যুৎ না থাকলেও ৫০০ বার অটোমেটিক খুলবে ও বন্ধ হবে। টোটাল সিস্টেমের তিন বছর ওয়ারেন্টি থাকে। তবে ব্যবহার কম হলে আরো বেশি দিন সক্রিয় থাকে।

ঢাকার মধ্যে তিন ঘন্টার মধ্যে সার্ভিস দেওয়া হয় এবং ঢাকার বাইরে তিন থেকে দশ ঘণ্টার মধ্যে সার্ভিস দেওয়া হয় ।

বিভিন্ন রকম সেন্সর ডোর:

  • অটোমেটিক স্লাইডিং গ্লাস ডোর
  • অটোমেটিক কার্ভ গ্লাস ডোর
  • অটোমেটিক স্লাইডিং গেট
  • অটোমেটিক গ্লাস সুইং ডোর
  • অটোমেটিক সুইং গেট
  • অটোমেটিক রোলার সুইং গেট
  • অটোমেটিক সেকশনাল গ্যারেজ ডোর
  • অটোমেটিক রোলিং সাটার
  • অটোমেটিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল সাটারস
  • অটোমেটিক ফুল হাইট ট্রানজিট ব্যারিয়ার
  • অটোমেটিক ট্রাইপড ট্রানজিট ব্যারিয়ার
  • অটোমেটিক পার্কি ব্যারিয়ার
  • অটোমেটিক বোলারড ব্যারিয়ার
  • অটোমেটিক টায়ার কিলার
  • অটোমেটিক হাইড্রোক্লোরিক ব্যারিয়ার

মূলত বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা কোরিয়া, জার্মানি, ইতালি ও চীনের অটোমেটিক ডোর আমদানী করে থাকেন। এ ডোরের ব্যবহার খুব বেশি না হওয়ায় কম দেশ থেকেই অটোমেটিক ডোরের আমদানী করা হয়।

অটোমেটিক ডোরের উপাদান:
সাধারণত অটোমেটিক ডোর দুই ধরনের উপাদান দিয়ে তৈরি। দুটি উপাদানের মধ্যে রয়েছে টেম্পারড গøাস ও পলি কার্বনেট। টেম্পারড গ্লাসের মধ্যে পলি কার্বনেটের মিশেলে অটোমেটিক ডোরের সৌন্দয বাড়ায় ও মসৃন করে।

অটোমেটিক ডোরের নিয়ন্ত্রণ:
বিভিন্নভাবেই এ ডোর নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এর মধ্যে টাচলেস, বায়োমেট্রিক, কী প্যাড বায়োমেট্রিক ও কার্ড কী রিডারের মাধ্যমে অটোমেটিক ডোরের নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়াও ম্যানুয়ালি, বাটন, ফটোইলেকট্রিক সুইচ, বোতাম, ড্রস্ট্রিং, রিমোট কন্ট্রোল মেটাল ডিটেকশন ও রাডারের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

অটোমেটিক ডোরের দরদাম:
অটোমেটিক সেন্সর ডোর আর্ন্তজাতিক বাজারে সাধারণত ৮০০-১৫০০ মার্কিন ডলারে বিক্রি হয়। সেন্সর ডোরের ব্যবহারিক সুবিধার উপর দাম নির্ভর করে। বাংলাদেশে ৬০ হাজার থেকে শুরু হয়ে ১,৬০,০০০ টাকায় এ ডোর বিকিনিকি হয়ে থাকে।

অটোমেটিক সেন্সর ডোর বডি:
অটোমেটিক সেন্সর ডোর বডি অনেক শক্তিশালী। উপরিভাগে নরম ইপোক্সি রজনসহ পলিয়েস্টার ফাইবারযুক্ত থাকে। এই বডিই ডোরের মূল ভিত্তি। বডি দূরে সরে যায় আবার কাছে এসে যুক্ত হয়।

অটোমেটিক সেন্সর ডোরের আকার:
সাধারণত অটোমেটিক সেন্সর ডোর প্রস্থ ৪-১০ মিটার ও উচ্চতাও ৪-১০ মিটার হয়ে থাকে। দরকার মাঝখানের দুটি পার্ট খুলে যায়। আবার এমনভাবেই অপারেটিং সিস্টেম করা যায় চারটি পার্টও এক সাথে খুলে যায়। ডোরের চারপাশে অ্যান্টি-এজিং সীল থাকে যা ডোরকে পুরনো হতে দেয় না। এর পাশাপাশি তাপ পরিবাহী পদ্ধতিও থাকে।

শব্দ শোষন:
এ ডোরের শব্দ শোষন ক্ষমতা কম বেশি ২০ ডেসিবল। বাইরে থেকে শব্দ ভেতরে আসে না। বাইরের শব্দ ভেতরে আসে না বলে লাক্সারি শপিংমল, অফিস, হোটেল ও যেকোনো ডেকোরেটিভ প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকে স্বাভাবিক কাজ কর্ম সহজেই পরিচালনা করা যায়।

চলমান গতি ও সময় নিয়ন্ত্রণ:
এ ডোরের সুইচিং স্পিড: ০.৬-১.৫ মিনিট/সেকেন্ড। ৫-৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই এ ডোর বন্ধ করার ব্যবস্থা করা থাকে। যায়।

নিরাপত্তা সুরক্ষা:
এ ডোরে নিরাপত্তা সুরক্ষা ডিভাইস থাকে। যেমন ফটোইলেকট্রিক সুইচ, কন্ট্রাক্ট সেন্সিং বর্ডার ও ওয়ার্নিং লাইট থাকে। কেউ যদি কোনো ধরনের বিপদে পরে তাহলে এ ডিভাইসগুলো সংকেত দিয়ে থাকে। তাতে সহজেই যে কোনো ধরনের সংকট থেকে উত্তরণ করা সম্ভব হয়।

সেন্সর ডোরের ব্যবহার:

  • লাক্সারি শপিংমলে
  • এয়ারপোর্টে
  • হাসপাতালে
  • অফিসে
  • ফার্মেসীতে
  • হোটেলে
  • মুদি দোকানে
  • হার্ডওয়ার স্টোরে
  • খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রে
  • স্পোর্টিং গুডস স্টোরে
  • বাণিজ্যিক ভবনে
  • রেষ্টুরেন্টে

এছাড়া যেকোনো ডেকোরেটিভ প্রতিষ্ঠানে আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে নিখুঁত, সেরা ও স্মার্ট প্রবেশদ্বার হিসেবে অটোমেটিক সেন্সর ডোরের ব্যবহার করা হয়।

পাবলিক প্লেসেও ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ:
ইদানিং দেশের অনেক বিল্ডিং এ বিশেষ করে বাণিজ্যিক ভবন, রেষ্টুরেন্ট, মার্কেটে এ ডোর এর বেশ ব্যবহার চোখে পড়ছে। প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করলে বিভিন্ন পাবলিক প্লেসে অটোমেটিক ডোর এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

অটোমেটিক ডোর হাত না লাগিয়ে সয়ংক্রিয়ভাবে খোলা বা বন্ধ হয়, আভ্যন্তরের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে ও সিকিউরিটি কন্ট্রোল বা নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। যে সব স্থানে হাত দিয়ে দরজা খোলা উচিত নয় -যেমন হাসপাতাল, অপারেশন থিয়েটার প্রভৃতি স্থানে এর ব্যবহার হওয়া উচিত।

আবার আবাসিক হোটেলে বিভিন্ন ধরনের মানুষের সমাগম হয়। দরজার হাতল থেকে যেন রোগ জীবানু সংক্রমিত না হয় এবং দুহাতে মালপত্র নিয়ে দরজা খোলা অসুবিধা এসব বিষয় বিবেচনা করলে বাসষ্ট্যান্ড, রেলওয়ে ষ্টেশন, এয়ারপোর্টের সর্বত্র অটোমেটিক ডোর এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

আর যেসব স্থানে কেন্দ্রীয়ভাবে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ করা হয় সেখানে অনেক সময়ই অসেচতনভাবে কেউ দরজা খুলে রেখে যেতে পারে। অটোমেটিক ডোর ব্যবহারে এই সম্ভাবনা থাকে না। অটোমেটিক ডোর সেন্সর এর মাধ্যমে কাজ করে, আর কেন্দ্রীয়ভাবে সেন্সরগুলো নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। যে কোন মুহুর্তে ভবনের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সেন্সর বন্ধ করে দিয়ে দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া যায়। তাই নিরাপত্তা বিবেচনাতেও অটোমেটিক ডোর এর ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ।

সেন্সর ডোরের প্রাপ্তিস্থান:

রাজধানীর মহাখালী, বনানীর চেয়ারম্যান, উত্তরা, ফার্মগেট, কাওরান বাজারে অটোমেটিক সেন্সর ডোর পাওয়া যায়। এছাড়াও রাজধানীসহ বিভাগীয় শহর ও বড় বড় জেলা শহরের অটোমোশনের শো রুমে এ ডোর পাওয়া যায়। এর বাইরে আমাজান ও আলিবাবার মতো আর্ন্তজাতিক অনলাইন প্লাটফর্মে অর্ডার করেও এ ডোর সংগ্রহ করা যায়। দেশেও এটুজেড, আজকের ডিল এর মতো অনেক অনলাইন কোম্পানি আছে যারা অটোমেটিক সেন্সর ডোর সরবরাহ করে থাকে।

লেখক: সাংবাদিক, কলামিস্ট ও অনুবাদক

ইমেল: starrabiul@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *