‘আবুবাকার মারি তামবাদু’ সাহসী দেশের সাহসী এক মানুষের গল্প

‘আবুবাকার মারি তামবাদু’ সাহসী দেশের সাহসী এক মানুষের গল্প

মানবাধিকার রক্ষায় সাহসী এক ব্যক্তি হিসেবে তিনি আবির্ভূত হয়েছেন। দেখতে কালো হলেও তিনি বিশ্ববাসীর নজর কেড়ে আলোচনায় এসেছেন। নির্যাতিত ও নিপীড়িত দেশ থেকে মানুষের কথা বলেই তিনি আলোচনায় এসেছেন।

গণহত্যা, ধর্ষণ ও বাড়ি-ঘরে আগুন লাগিয়ে রোহিঙ্গাদের দেশছাড়া করার পর কয়েক বছর বেশ আরামেই ছিলেন মিয়ানমারের সামরিক শাসক ও তারযদিও মামলার শুনানিতে গাম্বিয়া বলেছে, ওআইসির পক্ষে নয়, ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে মামলা করেছে গাম্বিয়া। আর গাম্বিয়াকে যৌথভাবে সহযোগীতা করছে বাংলাদেশ, সৌদি আরব, কাতার ও আন্তর্জাতিক ইসলামিক সংস্থা ওআইসি।

একনিষ্ঠ সমর্থক শান্তিতে নোবেল জয়ী অং সান সু চি। আর বিশ্বের নেতৃস্থানীয় রাষ্ট্রগুলো নীরবেই দেখেছেন সু চি’র এই অমানবিক হত্যাযজ্ঞ।

রোহিঙ্গাদের প্রাথমিক আশ্রয় দেয় বাংলাদেশ। একইসঙ্গে কূটনৈতিক চ্যানেলে বিশ্ববাসির কাছে রোহিঙ্গাদের সমস্যার কথা তুলে ধরে।

তবে জাতিসংঘ, ওআইসি বা আসিয়ানের মতো বিশ্বসংস্থা আর বিশ্বের মানবাধিকার সংস্থাগুলোর কর্মকাণ্ড বিবৃতি ও নিন্দা জ্ঞাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।

একদিকে রাখাইন অঞ্চলকে খালি করে নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার স্বপ্ন দেখতে থাকে মিয়ানমার। অন্যদিকে ১০ লাখো রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুর বাসস্থান আর খাদ্যের ব্যবস্থা নিয়ে ধুকতে থাকে বাংলাদেশ।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি যখন অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছিল তখন সুদূর আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গ দেশ থেকে জ্বলে ওঠে আশার আলো।

আফ্রিকার ক্ষুদ্র ও গরীব দেশ গাম্বিয়ার আইনমন্ত্রী আবু বাকার মারি তামবাদু ইন্টারন্যশনাল কোর্ট অব জাস্টিস-আইসিজে তে মামলা করে জ্বাললেন সেই আলোটি।

জানা যায় , বাংলাদেশে ২০১৮ সালের ৩০ ও ৩১ মে মাসে ওআইসি পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন শেষে গৃহীত ঢাকা ঘোষণার ৪৭ নম্বর অনুচ্ছেদে ওআইসির পক্ষে গাম্বিয়াকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

যদিও মামলার শুনানিতে গাম্বিয়া বলেছে, ওআইসির পক্ষে নয়, ১৯৪৮ সালের জেনোসাইড কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে মামলা করেছে গাম্বিয়া। আর গাম্বিয়াকে যৌথভাবে সহযোগীতা করছে বাংলাদেশ, সৌদি আরব, কাতার ও আন্তর্জাতিক ইসলামিক সংস্থা ওআইসি।

আবুবাকার মারি তামবাদু ২০১৮ সালে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে গিয়েছেন। তখন তিনি বাংলাদেশকে বলেছিলেন, দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় কাজ হবে না। মামলা করতে হবে।

দেশে ফিরে গিয়ে তিনি বসে থাকেন নি। নিজ দেশের হাজারো দায়িত্ব পালন করেছেন। একইসঙ্গে মিয়ানমারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে প্রস্তুতি নিয়েছেন মামলার।

শুধু মিয়ানমার নয়। বিশ্বের যেখানেই গণহত্যা হয়েছে সেখানেই রুখে দাঁড়িয়েছেন তামবাদু। তিনি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সহযোগী আইনী কর্মকর্তা ছিলেন।

রুয়ান্ডার গণহত্যাকারীদের শাস্তি দিতে রুয়ান্ডার সেনাবাহিনীর সাবেক জেনারেল আগস্টিন বিজিমুঙ্গুসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিলেন। ২০১৬ সালে এই বিচার কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন।

এবার মিয়ানমারের গণহত্যাকারীদের শাস্তির ব্যবস্থা করেই তিনি দেশে ফিরবেন বলে আশা করে বিশ্বের শান্তিপ্রিয় মানুষরা।

মুসলিম বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলো শুধু বিবৃতি এবং নিন্দা মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন আবু বাকার তামবাদু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *