আধুনিক জীবনে নান্দনিক পানির কল

Water Tap

জীবন যখন থেমে নেই, থেমে নেই সভ্যতাও। জীবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। উত্তরাধুনিকার গা ছুয়ে দিয়ে মানুষের জীবনে নেমে এসেছে সহজতর জীবনযাত্রা। বাসা বাড়িতে এসেছে নান্দনিক রূপ। সে রূপেরই অংশ নান্দনিক পানির কল। বাজারে এসেছে নানা রকম সুযোগ সুবিধা নিয়ে শিল্পখচিত ও দৃষ্টিনন্দন পানির কল। ইতোমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এসব কল। কলের প্রয়োজনীয়তা মিশে আছে জীবনযাত্রার সর্বক্ষেত্রেই।

ঘুম থকে উঠেই কল ছাড়তে হয় পানির প্রয়োজনে, দাঁত মাজা, গোসল করা, প্লেট ধোয়া, রান্না করা, কাপড় ধোয়া কত কি কাজ। কল ব্যবহার করে এ ব্যস্ত নগরীতে নিজের ফ্লাটে সবাই। গ্রামেও দালানে বা বসতবাড়ির বাইরে অনেকে কল ব্যবহার করে থাকেন। সময়ের চাহিদার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে বন্ধনের এবারের বিশেষ আয়োজন, ‘আধুনিক জীবনে নান্দনিক পানির কল’। সরেজমিনে ঘুরে এসব কলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন মোহাম্মদ রবিউল্লাহ।

পানির কলগুলোতেও দেখা যাচ্ছে নানা বাহারি নকশা। কোনোটি দেখতে গোল আপেলের মতো, আবার কোনোটা দেখতে জিরাফের গলার মতো লম্বা বাঁকানো, কোনোটা দেখতে কুন্ডলাকৃতির সাপের মতো, যেন ফণা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। নানা আকৃতি আর নকশার এ কলগুলোর মধ্যে রয়েছে বেসিন মিক্সার, বাথটাব মিক্সার ও শাওয়ার মিক্সার। সাধারণ এই তিন ধরনের কলই ব্যবহৃত হয় নিত্য প্রয়োজনে। এগুলো দেশি ও বিদেশি দুই ধরনেরই হয়ে থাকে। নকশা ও আকৃতিভেদে এসব কলের দাম পড়বে ১২০ টাকা থেকে ৪৫ হাজার টাকার মধ্যে। এসব কল বিক্রি হয়ে থাকে সেট হিসেবে। আবার এক ধরনের কল রয়েছে, যা কাজ করবে হাতের স্পর্শ ছাড়াই। কলের নিচে হাত রাখলেই কলকল করে পানি ঝরে পড়বে। সেন্সরযুক্ত এসব কলের দাম পড়বে সাত হাজার থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে।

বেসিন মিক্সার


অনেক ধরনের বেসিন মিক্সার রয়েছে। ছোট্ট বেসিনের জন্য ‘সিঙ্গল লিভার বেসিন মিক্সার’ লাগানোই ভাল। এই ধরনের কলের লিভারটি এ পাশ-ও পাশ ঘুরিয়ে ঠান্ডা বা গরম পানি পাওয়া যায়। সহজে মরিচা ধরবে না, মাথায় ফিল্টার থাকায় ময়লা আসবে না, গ্যারান্টিও ১০ বছরের। মূল্য ৩-৪ হাজার টাকা। সেন্টার হোল বেসিন মিক্সার-এর ক্ষেত্রে ঠান্ডা ও গরম পানির জন্য দু’পাশে দু’টি নব থাকে। এ ছাড়া রয়েছে বেসিন মিক্সার উইথ পুশ ওয়াশ, বাইডেল মিক্সার। বেসিন মিক্সার উইথ পুশ ওয়াশের লিভার ছোট বা বড় থাকে।

অধিকাংশ বাংলাদেশি বেসিন মিক্সার উইথ পুশ ওয়াশের মূল্য ৪ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়। আর বাইডেল মিক্সারের মূল্য সাড়ে ৪ হাজার টাকা। বাংলাদেশি বেসিন মিক্সার আড়াই থেকে ৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। আর চীনের ১২ হাজার পর্যন্ত বিক্রি হয়। তবে পণ্যের মানের উপর নির্ভর করে মূল্য। সিং মিক্সার বাংলাদেশি ৫’শ টাকা থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা বিক্রি হয়। লং বেসিন মিক্সার বিক্রি হয় ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। লং নোজ বেসিন মিক্সার নামের এক ধরনের বেসিন মিক্সার বিক্রি হয় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার টাকার মধ্যেই।

বাথটাব মিক্সার


বাথটাব মিক্সারের মধ্যে আবার বাথটাব মিক্সার উইথ হ্যান্ড শাওয়ার ও শাওয়ার মিক্সার উইথ স্পথ এন্ড মুভিং শাওয়ার রয়েছে। এইগুলোর মধ্যে বাংলাদেশি বাথটাব মিক্সার উইথ হ্যান্ড শাওয়ার ৪ হাজার থেকে সাড়ের ৭ হাজার মধ্যে পাওয়া যায়। বাথটাব মিক্সার ও শাওয়ার মিক্সার একই ক্যাটাগরির হওয়ার কারণে দামের তেমন ভিন্নতা নেই। নিচে শাওয়ার মিক্সারের নানা রকম ক্যাটাগরি ও দাম দেওয়া হলো।


শাওয়ার মিক্সার


হ্যান্ড শাওয়ার :

২৫০-১৫০০ টাকা। পানি মসৃনভাবে পড়বে, মরীচা ধরবে না, মেইড বাই চায়না। টয়লেট হ্যান্ড শাওয়ার : টয়লেট শাওয়ার ১২০-২ হাজার টাকা মধ্যে বিক্রি হয়। পানি মসৃনভাবে পড়বে, মরীচা ধরবে না, খুবই উন্নত মানের। শাওয়ার মিক্সার উইথ স্পথ এন্ড মুভিং শাওয়ার ৪ হাজার টাকা থেকে ১৩ হাজার টাকায় পাওয়া যায়।

অধিকাংশ মুভিং বেসিন বা সিং শাওয়ার ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। স্টেন্ড শাওয়ার মিক্সার ১৪ হাজার থেকে ২৭ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পুশ বেসিন ওয়াশ ১২০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার ৫’শ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। পুশ বেসিন ক্লিন ওয়াশ ৬৪৫ টাকা-১২০০ টাকা মধ্যে পাওয়া যায়।

সরাসরি পাত্রে পানি পড়ার কলকে পুশ বিব কক বেসিন বলে। এটি ৩’শ টাকা থেকে ১হাজরা ২’শ টাকার মধ্যে বাজারে বিক্রি হয়। উপরে বেসিনের পানিতে কোনো সমস্যা হলে নিচে সুইচ বন্ধ করে রাখার পদ্ধতিকে এঞ্জেল স্টপ কক বলে। এঞ্জেল ককের মাধ্যমে নিচে পানি বন্ধ করে রাখা যায়। মূল্য ২০০-১২০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায়।
ইউরিনাল ফ্লাশভ্যালু : বাজারে ২ হাজার থেকে আাড়াই হাজার টাকায় বিক্রি হয়। অধিকাংশ মুভিং পিলার কক ১১০০-১৮০০ টাকায় বাজারে বিক্রি হয়।

রং: উপরে উল্লেখিত পানির কলের অনেক ধরনের রং রয়েছে। এর মধ্যে হোয়াইট, অপ হোয়াইট, সিপি, লাইট, বøু, গ্রীন, পিং, ইয়োলো, বøাক, রেড।

প্রাপ্তিস্থান:

হাতিরপুল, গ্রীন রোড (গ্রীণ সুপার মার্কেট), মিরপুর, উত্তরা, কুড়িল, যাত্রাবাড়ি, বাড্ডা।

জং ও নিশ্চয়তা :

হাজার, ১২’শ বা ২ হাজার টাকা মূল্যে কল বা টেপকে সাধারণত কম মূল্যের কল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কম মূল্যের কলে জং ধরার সম্ভাবনা খুবই বেশি। ২ হাজার টাকার অধিক মূল্যের কল নষ্ট বা জং ধরে না। এসব কলেও ওয়ারেন্টি রয়েছে ৮-১০ বছর।

আরো দেখুন

Leave a Comment