অনলাইন ক্রেতারা মানসিকভাবে অসুস্থ: গবেষণা

অনলাইন শপিং নেটিজেনদের কাছে খুবই জনপ্রিয়। বাজারে গিয়ে ভিড়ের মধ্যে অযথা সময় নষ্ট না করে বেশিরভাগ নেট পাড়ার সদস্যরা অনলাইন কেনাকাটায় অভ্যস্থ হয়ে পড়ছে। তবে গবেষণা বলছে অন্য কথা। যারা নিয়মিত অনলাইনে বিভিন্ন সাইট থেকে কেনাকাটা করেন তারা মানসিকভাবে সুস্থ নয়। জার্মানির হ্যানোভার মেডিকেলের এক দল গবেষক এমন দাবি করেছেন।

মনোরোগ বিষয়ক সাময়িকী জার্নাল কমপ্রেহেসিভ সাইক্রিয়াট্রির এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানানো হয়েছে। গবেষণা বলছেন, অনলাইন ক্রেতারা মানসিকভাবে অসুস্থতার শিকার। গবেষকরা অনলাইন ক্রেতাদের মানসিক অবস্থাকে ‘বাইং শপিং ডিসঅর্ডার-বিএসডি’ বলে উল্লেখ করেছেন।

গবেষণার নেতৃত্ব দেওয়া অ্যাস্ট্রিড মুলার বলেন, বিএসডিকে মানসিক অসুস্থতা হিসেবে গণ্য করার সময় হয়েছে। অনলাইনের এসব ক্রেতাদের একটি বড় অংশই প্রতিদিনই অনলাইনে নিজেদের মতো করে কিছু না কিছু কেনাকাটায় মত্ত থাকেন। বিএসডি নতুন মানসিক রোগ। যে সব মানুষ প্রতিদিন অনলাইন কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকেন তাঁদের সুস্থ ও সঠিক চিকিৎসার প্রয়োজন আছে। সঠিক চিকিৎসা হলে এসব ক্রেতাদের ‘বাইং শপিং ডিসঅর্ডার’ অনেকাংশে কমানো যাবে।

গবেষণায় বলা হয়, নিয়মিত অনলাইন শপিং ক্রেতাদের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। যেসব মানুষ বেশি একাকিত্বে ভোগেন তাঁদের মধ্যেই এই ‘বাইং শপিং ডিসঅর্ডার’ বেশি লক্ষ্য করা যায়। এসব ক্রেতারাই নিজেদের মতো সময় কাটাতে বা নেগেটিভ কোনও চিন্তাভাবনা থেকে বিরত থাকতে সব সময় কোনও কারণ ছাড়াই অনলাইন কেনাকাটায় ব্যস্ত থাকেন।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, মানসিক অবসাদ কাটাতে এসব ক্রেতারা সোশ্যাল মিডিয়ায় স্ক্রল করার পাশাপাশি বিভিন্ন সাইটে ঘোরাঘুরি থেকে শুরু করে বিল পেমেন্ট পরিবারের প্রয়োজনীয় সমস্ত জিনিসই অনলাইন থেকে কিনে ফেলেন। নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিস অনলাইন থেকে কেনার পাশাপাশি অন্য কাউকে উপহার দিতেও অনলাইন শপিং করে থাকেন।

গবেষণা অনুযায়ী, সারা বিশ্বের মোট জন সংখ্যার মধ্যে মোট পাঁচ শতাংশ মানুষ ‘বাইং শপিং ডিসঅর্ডারে’র শিকার। জার্মানির এই রকম ১২২ জন অনলাইন ক্রেতার উপর এই গবেষণা চালানো হয়। যারা প্রতিদিনের অনলাইন শপিং’এ আসক্ত রয়েছেন। তবে এসব ক্রেতাদের অনলাইন শপিংয়ের নেশা থেকে বাঁচাতে সবার আগে পরিবার ও বন্ধু বান্ধবের সহযোগিতা প্রয়োজন। সঠিক চিকিৎসায় এই রোগ থেকে মুক্তি মিলবে।

আরো দেখুন

Leave a Comment